সোমবার, ১৪ নভেম্বর, ২০১১

আমার বিদেশী বন্ধুরা (৩য় পর্বঃ ইয়াসিন - সুদান)

[২০১০-১১ সেশনের শর্ট সেমিস্টারে International Students' Division (ISD) এর Welcoming Committee তে কাজ করতে গিয়েই ইয়াসিনের সাথে পরিচয়। এই সেমিস্টারের নতুন ছাত্র ছিল সে, বলা যায় আমার জুনিয়র ফ্রেন্ড। Welcoming Committee হচ্ছে ISD এর অধীনে একটি স্টুডেন্ট গ্রুপ। এই গ্রুপের কাজ মূলতঃ সারাবিশ্ব থেকে আগত নতুন ইন্টারন্যাশনাল ছাত্র-ছাত্রীদের এয়ারপোর্ট থেকে ভার্সিটিতে নিয়ে আসা, তাদের রেজিস্ট্রেশানের যাবতীয় কাজ সম্পন্ন করা, এবং তাদের নিয়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠান করা। ইয়াসিন এবং তার পরিবারের এক সদস্যের সাথে পরিচয় এবং পরবর্তীতে বেশ কিছু স্মরণীয় মূহুর্তগুলো শেয়ার করার এই ক্ষুদ্রে প্রচেষ্টা...]

আসরের নামাজের মধ্যে মোবাইল কাঁপা শুরু করলো… মেজাজটা যেমন গরম হয়ে গেলো, খুব খারাপও লাগছিল ইয়াসিনের জন্য। প্রায় আধা ঘণ্টা মেইন গেটে দাঁড়িয়ে থেকে ইয়াসিনের জন্য অপেক্ষা করা সত্ত্বেও ওর দেখা না পেয়ে যেইনা মাত্র মসজিদে গিয়ে নামাযে দাঁড়ালাম, তখনই এলো ওর কল্‌! রিয়াদ টু কুয়ালালামপুর প্রায় আট ঘণ্টার দীর্ঘ ভ্রমণ শেষে আবার এক ঘণ্টা KLIA (Kuala Lumpur International Airport) টু IIUM ট্যাক্সি ভ্রমণ করে আসা একজন ক্লান্ত মানুষ আমার অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছে অথচ আমি… তখন অবশ্য ইয়াসিনের সাথে পরিচয় ছিলনা আমার, শুধুমাত্র জানি যে সৌদি এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে রিয়াদ থেকে কুয়ালালামপুর আসছে সুদানিজ ছেলে ইয়াসিন, KLIA তে ল্যান্ড করবে দুপুর ৩টায়, আর IIUM পৌঁছুতে বিকাল ৫টার মতো বাজবে। ঘণ্টাখানেক আগে এয়ারপোর্ট থেকে মারুফ মোহাম্মাদ ভাই এসএমএস করে জানালেন ইয়াসিনকে তিনি ইতিমধ্যে "এয়ারপোর্ট লিমুজিন"-এ তুলে দিয়েছেন। এয়ারপোর্ট লিমুজিন হলো KLIA এর বিশেষ ট্যাক্সি সার্ভিস, সবচাইতে নিরাপদ। মালয়েশিয়ার হিংস্র তামিল ট্যাক্সি ড্রাইভারদের থাবা থেকে বাঁচানোর জন্যই মনে হয় KLIA কর্তৃপক্ষের এই মহান উদ্যোগ!

নামায শেষ হতেই মসজিদের অ্যাডমিন বিল্ডিং এর সামনের গেট থেকে বের হতে হতে ফোন দিলাম ইয়াসিনকে, ততক্ষণে প্রায় ৫-৬ মিনিট দেরী হয়ে গিয়েছে। কল রিসিভ করলো ওপাশ থেকে ইয়াসিন...

সোমবার, ৮ আগস্ট, ২০১১

দ্যাশডা joker এ ভইরা গ্যাছে দেহি!!!

লেখার যে শিরোনামটা দেখছেন, এটা হলো ৮ অগাস্ট ২০১১ সনে দেয়া আমার ফেসবুক স্ট্যাটাস। আমার ভার্সিটির এক আপু এই স্ট্যাটাসের হেতু জিজ্ঞেস করিলেন, উত্তরে বলিলাম, "হাহাহাহাহা!! শ্যামলী থেইক্কা ৭ নাম্বার বাসে কইরা বাসায় ফিরতাছিলাম, দীর্ঘ দেড় ঘণ্টার যাত্রায় এমন সব joker কে দেখলাম, যেসব joker এর অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায় শুধুমাত্র আমার প্রিয় জন্মভূমি বাংলাদেশেই!!!! :D" স্বভাবতই কৌতূহল জাগার মতোই উত্তর। আপু পুনারায় জিজ্ঞাসা করিলেন, "একটু বৃত্তান্ত দাও আমি না দেইখা মজা লই :P". বৃত্তান্ত শুরু করিয়াছিলাম, কিন্তু দেখিলাম কতক লাইনের কমেন্টের মাধ্যমে এই joker-বৃন্দের এবং তাদের কার্যকলাপের কাহিনী বর্ণনা করা সম্ভবপর নহে, কারণ এই joker-দিগের joke এর মান সত্যিই বেশ উঁচুমানের এবং superior! :D তাই শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিলাম পুরো ঘটনা লিখিয়া ফেলিনা কেন? বহুদিন তো লেখা হয়না, লেখার খড়াটাও একটু কাটিবে এই সুযোগে, যেই ভাবনা সেই কাজ, আপুকে বলিয়া দিলাম বৃত্তান্ত আমি দিচ্ছি, তবে কমেন্টে না, একটা ব্লগপোস্টের মাধ্যমেই। ;)
আমার লেখার হাত কখনোই ভাল ছিলোনা, স্বাভাবিকভাবেই এ লেখাটিও পূর্ববর্তী লেখাসমূহের ধারা বজায় রাখিয়াছে। আমরা জানি ভাষায় সাধু-চলিতের মিশ্রণ দূষনীয়, কিন্তু পাঠকবৃন্দ, আমি বেশ বেরসিক মানুষ, এই নিয়ম আমার ভালা লাগেনা, য্যামনে ভালা লাগে হ্যামনেই লেখি, তাই লেখার মইধ্যে দেখিবেন সাধু-চলিতের সাথে বিভিন্ন আঞ্চলিক/উদ্ভট বাংলার উপস্থিতি, হয়তো এক লাইনের মধ্যেই খুঁজে পাবেন বেশ ক' ধরনের বাংলা! মাইন্ড খাইয়েননা আবার! আশা করি বুইঝতে পারিছেন। :D

*  *  *  *  *  * *  *  *  *  *  * *  *  *  *  *  * *  *  *  *  *  * *  *  *  *  *  * *  *  *  *  *  * *  *  *  *  *  * * 
দীর্ঘ ৮ মাস পর দেশে ফিরেছিলাম সেমিস্টার ব্রেক পেয়ে, এর আগেও এসেছিলাম ৩ বার, কিন্তু তখন

সোমবার, ৯ মে, ২০১১

আমার বিদেশী বন্ধুরা (২য় পর্বঃ আহমাদ ইয়েমেনী)


আমার মোবাইলের কন্টাক্ট লিস্টে ওর নাম এভাবেই লেখা আছেঃ Ahmad Yemeni, আরেক বন্ধু Ahmad afghani-র সাথে ওকে পার্থক্য করার জন্যই এভাবে লেখা। কারণ এখানে এত্তো বেশি "আহ্‌মাদ" যে, দেশের নাম পাশে না লিখে রাখলে কোনটা কার নাম্বার তা মনে রাখা কঠিন হয়ে যায়। মাঝে মাঝে দেশের নাম রাখলেও হয়না, কারণ একই দেশের একই নামের বন্ধুও আছে। সেক্ষেত্রে তাদের দেশের নামের সাথে সাথে ডিপার্টমেন্টের সংক্ষিপ্ত নাম এবং বর্ষ লিখে রাখতে হয়, যেমনঃ 'Khalid Econ', 'Khalid Law', 'Khalid Thailand Engin', 'Khalid bhai Masters' ইত্যাদি ইত্যাদি। বিদেশী বন্ধুদের নিয়ে কিছু লেখার, হালকা-পাতলা গপ্পো করতে বেশ ভালো লাগে আমার, আর এটা আমার শখও বলতে পারেন। প্রথমে আহমাদ ইয়েমেনীর গল্পই শুরু করা যাক।

২০০৯ এর জুলাই কি অগাস্ট মাস, একদিন, ব্যাসিক কম্পিউটার স্কিল্‌স ক্লাসে আমার পাশে বসা আহমাদ হঠাৎ করে চিৎকার করে

রবিবার, ১০ অক্টোবর, ২০১০

“বিদেশ আইসা লস্ হয়া গেছে ভাই, তয় একটা জিনিস আমার চোখ খুইলা দিছে”

বসে ছিলাম লাইব্রেরীর সামনে, রিসার্চ & ম্যানেজমেন্ট সেন্টার এর পাশের এক বেঞ্চিতে। সবাই বলে এখানেই নাকি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়াই-ফাই এর সবচাইতে ভালো সিগনাল পাওয়া যায়। লাইব্রেরী খুলবে সকাল ৮টায়, ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখলাম আরো ১৫ মিনিট বাকি। এই ফাঁকে মেইলগুলো চেক করে ফেলা যাক, ল্যাপ্পি বের করে জিমেইলে লগিন করতে না করতেই দেখলাম বেশ দূরে এক বাংলাদেশী ভাই নাসির হেঁটে যাচ্ছেন, তবে তিনি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নন, স্টাফ। চোখাচোখি হতেই দূর থেকে হাত নাড়িয়ে সালাম দিলাম। কিন্তু একটা মজার ব্যাপার হলো, 'আসসালামু আলাইকুম' না বলে শুধু হাত নাড়ালেই কি সালাম দেয়া হয়ে যায়? এই বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার পর যে সংস্কৃতিটা আমার সবচাইতে ভালো লেগেছিলো তা হলো একজনের সাথে আরেকজনের দেখা-সাক্ষাৎ হলে সবাই খোঁজ-খবর নেয়, কেমন আছি-পড়ালেখা কেমন হচ্ছে-ভালো আছি কিনা ইত্যাদি ইত্যাদি। তবে এ কাজে বিদেশী ছাত্রদেরকেই বেশী আগ্রহী দেখেছি বাংলাদেশী ছাত্রদের চাইতে। আসলে ছোটবেলা থেকেই ওদের সংস্কৃতিটা এতো অদ্ভূত সুন্দরভাবে গড়ে উঠেছে যে এসকল কাজকে ওরা আবশ্যকীয় কর্তব্য হিসেবেই ভাবে যা আমরা ভাবিনা। এ কারণেই হয়তো কারো সাথে বেশ দূর থেকে দেখা হলে দূর থেকে হাত নাড়িয়ে ও একই সময় মাথাটা একটু ঝুঁকিয়ে সালাম দেয় ওরা। এটা সবার মধ্যেই প্রচলিত এখানে। এ জন্য নিজের অজান্তেই ঘটে এখন এটা। নাসির ভাইর সাথে চোখাচোখি হতেই দু'জনেই একইভাবে সালাম দিলাম। সালাম দিয়েই আমি আবার মেইল চেকিং এ মগ্ন হয়ে পড়লাম, খেয়াল করিনি যে উনি আমার দিকেই আসছেন। জিজ্ঞেস করলেন কেমন আছি-দেশে কবে যাবো ইত্যাদি ইত্যাদি। আমিও এই সুযোগে কথা বলা শুরু করলাম……

রবিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১০

মালাক্কা সফরের কিছু কথা এবং আমাদের বিশ্বভ্রমণ

আমার কাছে মনে হয় বিদেশে পড়ালেখা করা আর জেলখানায় বসবাসের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। সারা সারাবরছর ধরেই ‘ক্লাস-ল্যাব-লাইব্রেরী-হোস্টেল’ হলো আমাদের জীবনচক্র এবং ‘এসাইনমেন্ট-ল্যাবরিপোর্ট-কুইজ-মিডটার্ম’ হলো আমাদের কর্মচক্র, এর সাথে মাঝে মাঝে বিভিন্ন কো-কারিকুলার এক্টিভিটিসও থাকে। ভাল ফলাফল করতে হলে এর বাইরে কোনো কিছু করা খুবই কঠিন হয়ে পড়ে। ইচ্ছে করলে হয়তো একটু ঘুরে আসার সময় বের করা যায়, খরচের ভয়ে আর ঘুরতে যাওয়ার সাহস হয়না কারণ আমরা তো আর সৌদী আরবের ছাত্র নই যে মাসে ৫০০০ রিংগিত স্কলারশিপ পাচ্ছি। ;) আর তাছাড়া এটাতো আর আমার বাংলাদেশ না যে মন চাইলেই একটা রিকশা ডেকে কোথাও চলে গেলাম অথবা নিচের দোকান থেকে এক কাপ চা খেয়ে এলাম! ‘Paul T Scheuring’ এর জনপ্রিয় ইংলিশ সিরিয়াল ‘Prison Break’ এ খুব কাছ থেকে দেখেছিলাম জেলে বসবাসরত একজন মানুষের জীবন কেমন হতে পারে। মাঝে মাঝে নিজেকে ঠিক তেমনই মনে হয়, হতাশায় এতোটাই ডুবে যায় যে তখন ধৈর্য্য ধরার উপদেশ যারা দেন তাদেরকে জীবনের সবচাইতে বড় শত্রু মনে হয়। আর তাছাড়া বন্ধের দিনগুলো যেন আরো বিরক্তিকর।

রবিবার, ২৩ মে, ২০১০

প্রথম দেখায় কুয়ালালামপুর এয়ারপোর্ট

এবারের সেমিস্টার ব্রেকে দেশে যাওয়া হচ্ছেনা, তাই আগে থেকেই ভাবনা-চিন্তা শুরু করেছিলাম, কিভাবে এই ২২টা দিন পার করব?? সিনিয়র ভাইয়াদের কাছ থেকে শুনলাম এ সময়টুকু হয় সবচাইতে বোরিং, খাওয়া-দাওয়া এবং ঘুম ছাড়া আর কোন কাজ নেই! তাই খুঁজে ফিরছিলাম কি করা যায়? সবচাইতে ভাল উপায় হচ্ছে ভার্সিটির কো-কারিকুলার এক্টিভিটিস এ যোগ দেয়া। সেমিস্টার ব্রেকের সময় একমাত্র ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্টরাই ক্যাম্পাসে থাকার অনুমতি পায়, লোকাল স্টুডেন্টদের নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে যাওয়া বাধ্যতামূলক। যোগ দিলাম ওয়েলকামিং কমিটিতে। ওয়েলকামিং কমিটি হল ISD (International Student Division) এর অধীনে একটি স্টুডেন্ট গ্রুপ। এই গ্রুপের কাজগুলো হলঃ- ১) সারাবিশ্ব থেকে আগত  নতুন ইন্টারন্যাশনাল ছাত্র-ছাত্রীদের এয়ারপোর্ট থেকে ভার্সিটিতে নিয়ে আসা, ২) এরপর নতুন স্টুডেন্টদের রেজিস্ট্রেশানের যাবতীয় কাজ সম্পন্ন করা, ৩) এরপর তাদের নিয়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠান করা যেমন- Group Binding, Treasure Hunt, Grand Dinner, KL tour ইত্যাদি……

মঙ্গলবার, ১৬ মার্চ, ২০১০

ফিলিস্তিনী বন্ধু ফাহাদ এবং……. Forever Palestine

আজ ক্যালকুলাস ক্লাসটি একটু ফাঁকা ফাঁকা লাগছিল, মনে হচ্ছিল কেউ একজন অনুপস্থিত….. কিন্তু বুঝতে পারছিলামনা কে সে??? আগামী ২৫ তারিখ সেমিস্টার ফাইনাল এক্সাম শুরু, ক্যালকুলাস পরীক্ষা ১ এপ্রিল, আজ ছিল ক্যালকুলাসের শেষ ক্লাস। স্যার ব্রিফিং দিলেন ফাইনাল এক্সাম এর প্রশ্নের ধরন কেমন হবে, মান-বণ্টন কেমন হবে…… খুবই চিন্তিত লাগছে পরীক্ষা নিয়ে। আবার মাথার মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে আজ হঠাৎ ক্লাস এমন ফাঁকা ফাঁকা লাগছিল কেন? সবাই তো উপস্থিত, কিন্তু বিশেষ কেউ নিশ্চয়ই আসেনি, নাহলে ক্লাস এমন ফাঁকা ফাঁকা কেন লাগবে…… অন্যদিন নাহয় ক্লাস ফাঁকি দিল, আজকের ক্লাসটা খুবই গুরুত্ব্বপূর্ণ ছিল, এই ক্লাস ফাঁকি দেয়ার তো কোন মানে হয়না!!! এসব ভাবতে ভাবতেই যখন ক্লাসরুম থেকে বের হয়ে HS ক্যান্টিনের দিকে যাচ্ছিলাম, দেখা হল ফাহাদের সাথে। এবার মনে পড়ল কেন ক্লাসটা এমন ফাঁকা ফাঁকা লাগছিল আমার কাছে…….??? 


আমি তখন E0 বিল্ডিং এর নিচতলায়, ক্যান্টিনে যাচ্ছি।

শনিবার, ২৩ জানুয়ারী, ২০১০

আমার বিদেশী বন্ধুরা..... এবং এক সৌদী বন্ধুর গল্প এবং....................


IIUM এ আসার পর যে বিষয়টা আমি সবচাইতে বেশি উপভোগ করেছি তা হল- বিভিন্ন দেশের, বিভিন্ন সংস্কৃতির ছাত্র-ছাত্রীর সাথে পরিচিত হওয়া। সত্যিই….. এক ভিনদেশীর সাথে পরচিতি হতে পারাটা যেন অনেক কিছু! একটা সম্পূর্ণ অন্যরকম অনুভূতি। তাছাড়া অন্য দেশের ব্যাপারে, সংস্কৃতি, মানুষের ব্যাপারে অনেক কিছু জানা যায়। এখানে প্রায় ১১৭টি দেশের মুসলিম ছাত্র-ছাত্রী পড়ালেখা করে। আমি প্রথমে অবাক হয়েছিলাম রাশিয়ার ছাত্র-ছাত্রীদের দেখে……. আমি আগে জানতামনা যে রাশিয়াতে এত বেশি মুসলমান বাস করে। এতদূর থেকে ওরা পড়তে আসলো মালয়েশিয়াতে, বেশ বিস্মিত হয়েছিলাম আমি।

ফেলে আসা দিনগুলো...... কিছু ভাবনা, কিছু স্মৃতি, কিছু সংকল্প......... এবং স্বাগতম ২০১০




৩১ ডিসেম্বর ২০০৭, রাত ১১.৪৫ মিনিট................
মন ভাল ছিলনা। কিছুটা চিন্তিত ছিলাম হয়তো কোন একটা ব্যাপারে। বারান্দায় এলাম মুক্ত বাতাস খেতে..... গ্রিল ঘেঁষে হেলান দিয়ে দাড়ালাম। নিচে রাস্তার দিকে তাকিয়ে দেখছিলাম রিকশাগুলো। হেঁটে যাওয়া মানুষগুলোর দিকে তাকিয়ে দেখছিলাম সবার গতিপথ। এক একজন মানুষের গতিপথ এক এক দিকে। পৃথিবীতে কত্তোও মানুষ!!!!

সোমবার, ৪ জানুয়ারী, ২০১০

আমার ১ম দেশে ফেরার অভিজ্ঞতা......


বেশ ভাল লাগছিল, মাস পর দেশে ফিরছি পড়ালেখার উদ্দেশ্যেই আমার বিদেশ যাওয়া এবং এটাই ছিল আমার ১ম বিদেশ থেকে দেশে ফেরা প্রবাস থেকে দেশে ফেরার এই সময়টুকুতে আমার জীবনের কিছু চমৎকার অভিজ্ঞতা হয়েছে বলা চলে বেশ কিছু অভিজ্ঞতা হয়েছে, যেগুলো শুনে আমার প্রচণ্ড হাসি পেয়েছে, আবার ভীষণ কষ্টও লেগেছেআমার এই অভিজ্ঞতা গুলোই প্রকাশ পেয়েছে আমার এই লেখাটিতে

বৃহষ্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০০৯

সময়ের দৌড় এবং........ দেশের বাইরে জীবনের ১ম ঈদ

দেখতে না দেখতেই কেটে গেল আড়াই মাস। মানে ৩০+৩০+১৫=৭৫ দিন!!! টেরই পেলামনা কিভাবে এতদিন হয়ে গেল??? আসলেই কি ৭৫ দিন হয়ে গেল? নাকি যোগের ভুল??? :-O ঐতো সেদিনই তো এলাম। স্পষ্ট চোখের সামনে ভাসছে সবকিছু। একের পর এক…….. রাতের বেলা এয়ারপোর্ট থেকে আম্মু-আব্বুকে বিদায় দিলাম, প্লেনে উঠলাম এবং তারপর এখানে এসে নামলাম একদম কাকডাকা ভোরে। এখানে এসে অপেক্ষা করছিলাম অন্যান্য বাংলাদেশী বড় ভাইয়াদের জন্য। এয়ারপোর্টে আমাকে নিতে আসার কথা ছিল তাদের। অনেকক্ষণ অপেক্ষা করেও যখন তাদের পেলামনা, তখন বাধ্য হয়েই এক ইন্ডিয়ান ট্যাক্সি ড্রাইভারের মোবাইল থেকে কল করলাম ভাইয়ার কাছে। দিনটি ছিল শনিবার, ২৭জুন ২০০৯। সরকারী ছুটির দিন। তাই স্বাভাবিকভাবেই সব ছাত্রেরই স্ট্যাটাস তখন আউট অব সার্ভিস।:-D

বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০০৯

সোয়াইন ফ্লু, মৃত্যু, নামায........?? জীবনের এক বিরল অভিজ্ঞতার গল্প..........


মানুষের জীবনে কত ধরনের অভিজ্ঞতাই না হয়! কিন্তু, কিছুক্ষণ আগে ঘটে যাওয়া এই ঘটনা আমার আজীবন মনে থাকবে। এই ঘটনা আমাকে একই সাথে, একই মুহুর্তে কয়েক ধরনের অভিজ্ঞতার স্বাদ অর্জনে সাহায্য করল। :-D ঘটনাটিতে আমি যতনা ভয় পেয়েছি, তার চাইতেও বেশি অবাক হয়েছি। মৃত্যুকে ঠিক নিজের সামনে থেকে দেখার অভিজ্ঞতা - যা এখনো অনুভূত হচ্ছে, সাথে সাথে............ এখন নাহয় নাই বললাম ;-) পুরোটা পড়লেই জানতে পারবেন :-D

শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০০৯

তোমার ছেলের চিঠি - “মনে পড়ে আম্মু???............ :'( ”

আম্মু, আজ কেন জানি খুব মনে পড়ছিল তোমাকে। তাই এই চিঠিটা লিখতে বসে গেলাম। তোমার কাছে লেখা আমার প্রথম চিঠি। জানিনা এই চিঠি কোনদিন তোমার কাছে পৌঁছুবে কিনা...... আজ তোমাকে খুব পড়ছিল আম্মু। খুব মনে পড়ছিল সেই নারীর কথা, যার কারণে আমি আজ এই ধরণীতে, যিনি ১০ মাস ১০ দিন পেটে ধরে আমাকে পৃথিবীর আলোতে নিয়ে এসেছেন, পৃথিবীর আলো দেখার সুযোগ করে দিয়েছেন। আজ খুব মনে পড়ছে তোমাকে আম্মু, যার সাথে আমি আমার জন্মভূমিতে কাটিয়ে এসেছি জীবনের স্মরণীয় ১৯টি বছর। আজ খুব মনে পড়ছে তোমাকে আম্মু, যাকে হাজারো কষ্ট দেয়া সত্ত্বেও আমাকে যিনি এক মুহূর্তের জন্যও দূরে ঠেলে দেননি, যাকে হাজারভাবে যন্ত্রণা দেয়া সত্ত্বেও একবারের জন্যও বিরক্ত হয়ে "উফ" পর্যন্ত বলেননি, যাকে......... যাকে........ যাকে........শেষ হবে এভাবে বলতে থাকলে??......