আমার বিশ্ববিদ্যালয়ে রমজান উপলক্ষ্যে কোনো বন্ধ তো দেয়ইনা বরং এ সময়ই মিড-সেমিস্টার এক্সামগুলো হয়ে থাকে এবং বিস্ময়কর হলেও সত্য যে এ সময়ে লাইব্রেরী অধিকাংশ সময়ই বন্ধ থাকে। মনে প্রশ্ন জাগে যে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কোন প্রজাতির গাধা? :@ রমজান মাসে মিড-সেমিস্টার এক্সাম দেয়া মানেই যেখানে ছাত্রদের উপর অতিরিক্ত বোঝা চাপিয়ে দেয়া, সেখানে লাইব্রেরীও খুব কম সময় খোলা রাখা মানেই পরীক্ষার জন্য ছাত্ররা যে প্রস্তুতি নিতে পারতো তার ব্যাঘাত ঘটানো। এ কারণে এবারের রমজান মাস ছিল নিঃসন্দেহে আমার জীবনের সবচাইতে বাজে রমজান মাসগুলোর একটি। রমজান মাসে ইবাদত-বন্দেগী করা তো দূরের কথা পরীক্ষার পড়াই শেষ করতে পারছিনা এসকল কারণে। এতোটাই অপরাধবোধ কাজ করছিলো নিজ মনে মধ্যে নিজেকে যেনো মনে হচ্ছিল জেলখানায় বসবাস করা কোনো খুনের মামলার আসামী। :( খুব বাজে কিছু মিড-সেমিস্টার এক্সাম শেষ করার পর ঈদ এলো, ঠিক করলাম এই বদ্ধ আবহাওয়া থেকে বের হয়ে একটু মুক্ত বাতাস খেয়ে আসি। সে পরিকল্পনা অনুযায়ী আমরা ৫ জন বন্ধু (আমি, আবির, শাফি, জয়, জাহিদ) মিলে ঠিক করলাম ঈদের পরদিন ‘গেন্টিং হাইল্যান্ড’ থেকে ঘুরে আসবো।
ঈদের পরদিন শনিবার ১১ই সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায় ভার্সিটি থেকে বের হলাম গেন্টিং হাইল্যান্ড বাসস্ট্যান্ডের উদ্দেশ্যে, গিয়ে দেখলাম নেক্সট বাস ছাড়বে দুপুর ১টায়! এদেখে আমাদের ভ্রমণের সাধ মিটে গেলো, কেউ কেউ বলছিলো ঘুরা-ঘুরির দরকার নেই, ভার্সিটিতে ফিরে যাবে। কিন্তু কোথাও ঘুরতে যাবার পরিকল্পনা নিয়ে বের হয়েও ঘুরতে না পারা এবং আবার জেলখানায় ফিরে যেতে ইচ্ছে করছিলোনা আমার। শেষ পর্যন্ত আমি এবং শাফি প্রস্তাব করলাম দূরে কোথাও ঘুরে আসা যায় কিনা? সে হিসেবে মালয়েশিয়ার আমি প্রস্তাব করলাম মালয়েশিয়ার দক্ষিণ-পশিমাঞ্চলের ঐতিহাসিক শহর মালাক্কা ঘুরে আসা আসার। মালয়েশিয়ার অন্যান্য প্রদেশের চাইতে এটা কুয়ালালামপুর থেকে বেশ কাছে এবং যেতে মাত্র দু’ ঘণ্টা সময় লাগে তাই মালাক্কা গেলে আজকের মধ্যেই ফিরে আসা যাবে। আর তাছাড়া এর আগে এই শহরের ব্যাপারে শুনেছি যে এটা নাকি মালয়েশিয়ার অন্যান্য শহরগুলো চাইতে একটু বেশি সুন্দর। এরপর সবাই রাজি হয়ে গেলো এবং শুরু হলো আমাদের মালাক্কা সফর।
সম্পূর্ণ অজানা-অচেনা কোনো এক জায়গায় উদ্দেশ্যে যাত্রা, আমরা নিজেরাও জানিনা সেখানে পৌঁছে আমরা কি করবো, কোথায় কোথায় ঘুরবো। তবে প্রায় দেড় বছর আগে মালয়েশিয়া আসার পূর্বে মালাক্কা সম্পর্কে একটি ডকুমেন্টারী ফিল্ম দেখেছিলাম আমি, এর থেকে যতদূর মনে পড়ে তা হলো মালাক্কা শহরটি সমুদ্রের তীরে অবস্থিত এবং ‘মালাক্কা টাওয়ার’ হলো মালাক্কার অন্যতম একটি দর্শনীয় স্থান। এক ভাইয়াকে ফোন করলাম যিনি মালয়েশিয়ার বিভিন্ন স্থানে ঘুরেছেন, তিনি বললেন কোথাও যাওয়ার আগে সেই স্থানের দর্শনীয় স্থান সম্পর্কে ইন্টারনেটে খোঁজ-খবর নিয়ে যেতে, যাতে সেখানে পৌঁছে কোনো সমস্যায় পড়তে না হয়। কিন্তু আমরা তো ইতিমধ্যে ভার্সিটি থেকে বেরিয়ে পড়েছি, এখন তো আর ইন্টারনেটে সার্চ দেয়াও সম্ভব না। তারপরও আমরা রওয়ানা দিলাম ‘যা আছে কপালে’ পণ করে।
ট্রেনে করে দু’টি স্টেশন পরিবর্তন করে যেতে হলো ‘বুকিত জলিল’ বাসস্ট্যান্ডে। গিয়ে দেখি অনেক অনেক বাস এর টিকেট কাউন্টার, তার উপর ঈদ মৌসুম বলে এর অবস্থা এক্কেবারে বাংলাদেশের সায়েদাবাদের টিকেট কাউন্টারের মতো, আমরা পৌঁছতে না পৌঁছতেই লোকজন এসে জিজ্ঞেস করতে লাগলো কোথায় যাবো আমরা। বুঝতে পারলাম এখানকার অবস্থাও কিছুটা বাংলাদেশের মতো। পরে নিজেরাই টিকিট কাউন্টার দেখে যাচাই করতে লাগলাম কোন বাসে গেলে ভালো হবে, কিন্তু এতোটা বেছে নেয়ারও সুযোগ ছিলোনা, কারণ ঈদ মৌসুম বলে বেশিরভাগ ভালো বাসগুলোর টিকিটই প্রায় শেষ। শেষ পর্যন্ত কোনো উপায় না দেখে ‘Mayang Sari’ নামের বাসে টিকেট কাটলাম। আমাদেরকে বলা হলো বাস ৭নং প্লাটফর্মে আছে এবং ছাড়বে ১২টা ৪৫মিনিটে। কিন্তু ৭নং প্লাটফর্মে গিয়ে দেখি মালাক্কা যাবার বাস এখনো এসে পৌঁছেনি। আরো আধা ঘণ্টা অপেক্ষা করার পরও বাস আসছিলোনা বলে আমরা ফিরে যাচ্ছিলাম টিকেট কাউন্টারে, ঠিক তখনই বাস এলো। এই বাস সবেমাত্র মালাক্কা থেকে ফেরত এলো তাই আরো কিছুক্ষণ পর ছাড়বে। এর প্রায় ১৫মিনিট পর বাস ছাড়লো, শুরু হলো মালাক্কার উদ্দেশ্যে গন্তব্যহীন যাত্রা……
| On the way to Melaka |
এরপর শুরু হলো আমাদের আসল অভিযান। আমরা কেউই জানিনা আমরা এখন কি করবো? আমি বললাম মালাক্কা শহরটা তো সমুদ্রের পাশেই, তাই সি-বীচ থাকার কথা, এ ব্যাপারে কাউকে জিজ্ঞেস করে দেখা যেতে পারে। কিন্তু কাকে জিজ্ঞেস করবো? এখানে কেউ ইংলিশ বুঝেনা, কিন্তু দোকানে কাজ করেন বয়স্ক এক লোক দেখলাম মোটামুটি ইংলিশ পারেন, দেখে মনে হলো ভারতীয় উপমহাদেশের যে কোনো দেশের মানুষ, আমাদেরকে বুঝিয়ে দিলেন কিভাবে যেতে হবে। ‘মাকোটা’ নামক জায়গাটা সমুদ্র দিয়ে ঘেরা এবং বেশ সুন্দর, মালাক্কা সেন্ট্রাল বাস-ষ্টেশন থেকে ১ রিংগিত ভাড়া নিবে।
মালাক্কা সেন্ট্রাল বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে এবার ‘মাকোটা’-গামী বাসের খোঁজ করা শুরু করলাম। দু’জন পুলিশকে জিজ্ঞেস করার পর ‘মালয়’ ভাষায় কিসব বললো বুঝলামনা, তবে মাঝ দিয়ে ৩টি শব্দ ধরতে পারলাম ‘বাস তুজোহবেলাস’ (মালয় ভাষায় ‘তুজোহবেলাস’ মানে ১৭), এবার আমাদের মিশন হলো ‘১৭’ নম্বর বাস খুঁজা। কিন্তু ১৭ নম্বর কোনো বাস পেলামনা, একটা বাসে লেখা দেখলাম ‘Makota Ocean’, কিন্তু শিউর হতে পারছিলামনা যে এটাই সেই বাস কিনা যেটা আমরা খুঁজছি… সেখানে দেখলাম ৩ জন প্রবাসী বাংলাদেশী ভাইকে, তাদেরকে জিজ্ঞেস করার পর তারা বললেন এই বাসে করেই মাকোটা যায়। আমরা মহা আনন্দে উঠে গেলাম বাসে। বাসটা আবার কুয়ালালামপুর শহরের বাসগুলার মতো না, একদম সাধারণ। মালয়েশিয়া আসার পর এই ১ম মনে হয় এসিবিহীন বাসের দেখা পেলাম। বাসে উঠার পর আরেক দেশী ভাইর সাথে দেখা, আমরা সমুদ্র দেখতে যাচ্ছি শুনে তিনি বললেন এই বাসে করে তো যাওয়া যাবেনা, পেছনে ফিরে গিয়ে অন্য বাস ধরতে হবে। আমাদের মাথায় যেন ঠাডা পড়লো। :-S আবার ফিরে গিয়ে বাস পরিবর্তন করতে হবে?? আবির রেগে গিয়ে আমাদের বললো, কারো কথা শুনার দরকার নাই, হোটেলের ঐ লোক যেভাবে বলছে সেটাই ঠিক আছে, আগে মাকোটা গিয়ে দেখি কি করা যায়। মাকোটা পৌঁছার সাথে সাথেই দেখলাম সমুদ্র দেখা যাচ্ছে। কিন্তু কোনো সি-বীচ নেই। :( বাস যেখানে থামলো তার পাশেই দেখলাম ‘মাকোটা শপিং মল’, বিশাল বড়। সবাই মিলে ঠিক করলাম এখানেই যাই প্রথমে। কুয়ালালামপুরের শপিং মলগুলোর চাইতে একটু ভিন্ন এটা। কুয়ালালামপুরের মতো এখানেও শপিং মলগুলোতে মালয়দের চাইতে চাইনিজদের আধিক্য বেশি দেখলাম, আমার ধারণা ছিলো চাইনিজরা শুধু মালয়েশিয়ার ক্যাপিটেলেই আছে, কিন্তু মালাক্কা এসে সে ধারণা বদলে গেলো।
![]() |
| Mahkota Parade Shopping Mall |
মাকোটা শপিং মল ঘুরে শেষ করতে প্রায় দেড় ঘণ্টা চলে গেলো। আসরের আযান দিলো, কিন্তু শপিং মলের ভিতর কোনো ‘সুরাউ’ খুঁজে পাচ্ছিনা। মালয়েশিয়ায় নামাজ পড়ার স্থানগুলো ‘সুরাউ’ নামেই পরিচিত। বিভিন্ন শপিং মল অথবা পাবলিক প্লেসে মসজিদের গম্বুজ ও এর উপরে চাঁদ-তারার বিশেষ একটা চিহ্ন দিয়ে সুরাউকে চিহ্নিত করা হয়। কিন্তু কোথাও এই চিহ্নের খোঁজ পেলামনা, চলে গেলাম মেইন গেটের সামনে, যেখানে শপিং মলের ম্যাপ আছে। লক্ষ করে দেখলাম প্রত্যেক তলার দোকানের লিস্ট থেকে শুরু করে টয়লেট কোথায় সেটাও ম্যাপে আঁকা আছে কিন্তু সুরাউর কোনো চিহ্নও পেলামনা। পরে সিক্যুরিটিকে জিজ্ঞেস করার পর বললো সুরাউ ২য় তলায় আছে। বেশ অবাক হলাম, সুয়ারু থাকা সত্ত্বেও কেনো তারা ম্যাপে এটাকে চিহ্নিত করলোনা?
| Melaka Tower |
| Frol de la mar |

‘ফ্রোল ডে লা মার’ ঘুরা শেষ হতে হতে প্রায় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা। আবার যেন মাথায় ঠাডা পড়লো, এত্তোক্ষণ হয়ে গেলো কিভাবে??? সাড়ে ৮টার বাস ধরতে পারলে হয়তো সাড়ে ১০ টার মধ্যে ফিরতে পারবো, ট্রেন চালু থাকে রাত ১১ টা পর্যন্ত। একটু দেরী হলেই সব মিস হয়ে যাবে, ওদিকে আবার পেটও ক্ষুধায় চোঁ চোঁ করছে। দ্রুত এক দোকানে গিয়ে খাবার পার্সেলে করে নিয়ে নিলাম সবাই, মালাক্কা সেন্ট্রাল বাস স্টেশন এখন আমাদের গন্তব্য। কিন্তু এখন পড়লাম আরেক বিপদে, কোনো ট্যাক্সি পাচ্ছিনা। কুয়ালালামপুরের বাইরে বেরোলেই এই সমস্যা, কোনো ট্যাক্সি পাওয়াই যায়না, এদেশে তো সবারই বলতে গেলে গাড়ি আছে, তাই ট্যাক্সিরও প্রয়োজন হয়না। কুয়ালালামপুরে অনেক ট্যুরিস্ট আসে বলেই হয়তো ট্যাক্সি যখন ইচ্ছা তখন পাওয়া যায়। প্রায় আধা ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকার পর একটা ট্যাক্সি পাওয়া গেলো, কিন্তু ড্রাইভার দাম ভাড়া হাকালেন ২০ রিংগিত। আমরা জিজ্ঞেস করলাম, “মিটারের কি হয়েছে”? ড্রাইভার মিটারে যেতে রাজি নয়। এখানেও দেখি বাংলাদেশের মতো অবস্থা! যাই হোক নিরুপায় হয়ে ট্যাক্সিতে উঠলাম, উঠেই আবার আরেক বিপদ। বিপদের কারণ হলো আমরা ৫ জন। ড্রাইভার বললো ৪ জনের বেশি নিতে পারবেনা সে, কারণ পুলিশ সমস্যা করে। বললাম ভাই আমরা ছাত্র মানুষ আজ রাতের মধ্যেই কুয়ালালামপুর পৌঁছুতে হবে, পুলিশ ধরলে আমরা বুঝিয়ে বলবো। এ কথা বলার পর ড্রাইভার নিজের মনের মাঝে লুকিয়ে থাকা আসল কথা বললেন, আসলে পুলিশ-টুলিশ কিচ্ছুনা ওনার আরেকটু বেশি ভাড়া চাই, আরো ৫ রিংগিত বাড়িয়ে দিবো বলার পর যেতে রাজি হলো সে। এবার পড়লাম প্রচণ্ড জ্যামে, ১০ মিনিটের রাস্তা পার করতে আধা ঘণ্টা লাগলো। ভেবে দেখলাম আসলে যত দ্রত কোনো কাজ করতে চাই কাজটা আসলে ততো দেরীতে হয়।
মালাক্কা সেন্ট্রাল বাস স্টেশনে গিয়েই আমি আমার জীবনের সবচাইতে বাজে অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হলাম। সব ক’টা বাস কাউন্টার চেক করলাম, বেশিরভাগ টিকেটই শেষ, তারপরও অল্প যে ক’টা পাওয়া গেলো সেই বাস হলো রাত ১০টার। এই বাসে গেলে তো পৌঁছুতে রাত ১২ টা বেজে যাবে, আরেক বিপদে পড়বো তখন। আমাদের এ অবস্থা দেখে একটা কাউন্টার থেকে এক তামিল মহিলা আমাদের বললো রাত ৮টা ৪৫ এ তাদের বাস আছে, আমরা তো বেশ খুশি হয়ে গেলাম। কিন্তু এই মহিলা যে আমাদের সাথে এত্তো বড় প্রতারণা করবে তখন বুঝতে পারিনি। টিকেট কিনার পর দেখি টিকেটে লেখা ‘10 pm’। আজব তো! মহিলা বললো ৮টা ৪৫ এর বাস অথচ এখানে লেখা রাত ১০টার বাস! ফিরে গিয়ে মহিলাকে জিজ্ঞেস করলাম, সে বললো ১৩ নং প্লাটফর্মে গিয়ে অপেক্ষা করতে এখনই বাস ছাড়বে। ১৩ নং প্লাটফর্মে গিয়ে দেখি কোনো বাস নেই!! এরপর আবার টিকেট কাউন্টারে ফিরে যাওয়ার সাথে সাথেই মহিলা আমাদের দেখে খুব হতাশ হওয়ার ভান করে বললো ৮টা ৪৫ এর টিকেট নাকি শেষ হয়ে গিয়েছে। খুব অবাক হলাম আমি। আসলে মালয়েশিয়া আসার পর গত দেড় বছরে এরকম প্রতারক দেখিনি, তাই সরল মনেই কিনে নিয়েছিলাম টিকেট। এখন আরো সোয়া ১ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হবে! ওদিকে শাফি আরেকটা বাস কাউন্টারে খোঁজ নিয়ে দেখলো যে রাত ৯টায় তাদের একটা বাস আছে, তাই আমরা ভাবলাম এই টিকেট ফিরিয়ে দিয়ে ঐ বাসে চলে যাবো। শাফিকে বললাম ঐ টিকেট কিনে আনতে, আমি ওদের টিকেট ফিরিয়ে দিয়ে টাকা নিয়ে আসছি। এবার ঐ প্রতারক তামিল মহিলার কাছে গিয়ে বললাম আমরা যাবোনা, আমাদের টাকা ফেরত দিতে, মহিলা পাশে দাঁড়ানো আরেক তামিল লোককে দেখিয়ে বললো ওর সাথে কথা বলতে। ঐ তামিল লোককে দেখেই বুঝা যায় বেটা মাস্তান, সে আবার আরেক কাউন্টারে টিকেট বিক্রি করছিলো। আমরা বারবার বলছিলাম যে আমাদের বাস ৯টায় ছেড়ে দিবে কিন্তু সেই লোক বলেই যাচ্ছে অপেক্ষা করতে। আমাদের হাত থেকে টিকেট নিয়ে সেগুলো অন্যদের কাছে বিক্রি করে দিলো। এরপর আমাদের ৭৫ রিংগিত ফেরত চাওয়ার পর আমাদেরকে দিলো ৫০ রিংগিত। কেউ যখন টাকা-পয়সা নিয়ে এমন ঝামেলা করে তখন আমার মেজাজ এমনিতেই গরম হয়ে যায়, কিন্তু মালয়েশিয়ায় তামিলদের যে ইতিহাস তাতে মাথা ঠাণ্ডা রাখতেই হলো। আমি সুন্দর করে লোকটাকে জিজ্ঞেস করলাম,
-৫০ রিংগিত কেন? বাকি ২৫ রিংগিত কই?
-তোমরা টিকেট কিনে আবার ফেরত দিয়েছ এ জন্য ৫০ রিংগিত দিয়েছি।
-কিন্তু তোমার কাউন্টারের এই মহিলাই তো আমাদের কে ৮টা ৪৫ এর বাস বলে টিকেট বিক্রি করেছে।
এবার লোকটা আমার দিকে তেড়ে এসে বললো, “তুমি কি চাও?? বাইরে আসো তোমার সাথে বোঝাপোড়া করছি”। বুঝলাম শালা বদ্মাশ বেটা বাইরে গিয়ে মাইর দেয়ার ফন্দি করছে। শাফি সাথে সাথে লোকটাকে থামিয়ে বললো, “আচ্ছা ভাই আমাদের ২৫ রিংগিতের দরকার নাই। আমরা চলে যাচ্ছি”। ওরা আমাকে সরিয়ে নিয়ে এলো ঐ কাউন্টার থেকে। এরপর অন্য কাউন্টারে গিয়ে ৯টার বাসে উঠে গেলাম। বুঝলামনা একজন মানুষ এতোটা খারাপ হয় কি করে? এটাতো মাত্র ২৫ রিংগিত, এটা নিয়ে তার কি লাভ হলো? এটা তো আর ২লক্ষ রিংগিত না যে সে বিশাল বড়লোক হয়ে গিয়েছে। হায়রে মানুষ! শুনেছিলাম মাহাথির ক্ষমতায় আসার পর নাকি ২/৩ লক্ষ তামিল মেরে ফেলেছিলো দেশ ক্লিন করার জন্য। এখন আমার মনে হচ্ছে কিছু বাকি রয়ে গিয়েছিলো সেগুলো এখনও আছে। শাফি বললো, কোনো তামিল অপরাধের পর ধরা পড়লে নাকি তাদেরকে এক্কেবারে মেরে ফেলাই হয় মালয় পুলিশের আসল লক্ষ্য, কারণ এরা কখনো শুধরায়না।
কুয়ালালামপুর ফিরতে ফিরতে রাত সাড়ে ১২টা বেজে গেলো। কোনো ট্রেন নেই। অগত্যা ৬০ রিংগিত দিয়ে ট্যাক্সি ভাড়া করেই ভার্সিটি ফিরতে হলো।
![]() |
| মালাক্কা হতে ফেরার পথে, আমি ঘুমাচ্ছি, আমার পাশে জয়, পিছনে জাহিদ ভাই (নীল জামা), আবির-শাফি ফটোতে নেই |
ছোটবেলা থেকেই আমার একটা নেশা ছিলো বিশ্বভ্রমণ। আলহামদুলিল্লাহ সেই সুযোগ আমি পেয়েছি। আমি চাই সারা বিশ্ব ঘুরে বেড়াতে এবং আল্লাহর সৃষ্টির অপার সৌন্দর্য উপভোগ করতে। জানি এজন্য অনেক অনেক অর্থ দরকার, কিন্তু আমি বিশ্বাস করি অর্থ কোনো সমস্যাই নয় যদি আমার ইচ্ছে থাকে। আমরা ৫ বন্ধু মিলে ঠিক করলাম এরপর প্রত্যকে বন্ধে মালয়েশিয়ার বিভিন্ন প্রদেশ ঘুরে আসবো। আর যে বন্ধে দেশে যাবো তখন ঘুরবো দেশের বিভিন্ন জায়গা। সামনের নভেম্বরের সেমিস্টার ব্রেকে আবিরের বাড়ি খুলনা, জয়ের বাড়ি বাগেরহাট ও সেই সাথে সুন্দরবন এবং শাফির বাড়ি নাটোর ঘুরে আসা আমাদের প্ল্যান। অনার্সের এই ৪ বছর মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশ ভ্রমণ শেষ করার পর ইনশাল্লাহ্ শুরু হবে আমাদের বিশ্বভ্রমণ! :D
আপনারা সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন যাতে আল্লাহ আমাকে বিশ্ব ভ্রমণ করার সুযোগ দেন…… ভ্রমণের সব রোমাঞ্চকর কাহিনী লেখার মাধ্যমে আপনাদের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করবো ইনশাল্লাহ। :)
http://www.sonarbangladesh.com/articles/TariqRidwan


বাব্বাহ, খুব মজা করে ঘুরে এলি দেখি!
উত্তরমুছুনহুম... তাই তো মনে হচ্ছে!
উত্তরমুছুন