সোমবার, ৯ মে, ২০১১

আমার বিদেশী বন্ধুরা (২য় পর্বঃ আহমাদ ইয়েমেনী)


আমার মোবাইলের কন্টাক্ট লিস্টে ওর নাম এভাবেই লেখা আছেঃ Ahmad Yemeni, আরেক বন্ধু Ahmad afghani-র সাথে ওকে পার্থক্য করার জন্যই এভাবে লেখা। কারণ এখানে এত্তো বেশি "আহ্‌মাদ" যে, দেশের নাম পাশে না লিখে রাখলে কোনটা কার নাম্বার তা মনে রাখা কঠিন হয়ে যায়। মাঝে মাঝে দেশের নাম রাখলেও হয়না, কারণ একই দেশের একই নামের বন্ধুও আছে। সেক্ষেত্রে তাদের দেশের নামের সাথে সাথে ডিপার্টমেন্টের সংক্ষিপ্ত নাম এবং বর্ষ লিখে রাখতে হয়, যেমনঃ 'Khalid Econ', 'Khalid Law', 'Khalid Thailand Engin', 'Khalid bhai Masters' ইত্যাদি ইত্যাদি। বিদেশী বন্ধুদের নিয়ে কিছু লেখার, হালকা-পাতলা গপ্পো করতে বেশ ভালো লাগে আমার, আর এটা আমার শখও বলতে পারেন। প্রথমে আহমাদ ইয়েমেনীর গল্পই শুরু করা যাক।

২০০৯ এর জুলাই কি অগাস্ট মাস, একদিন, ব্যাসিক কম্পিউটার স্কিল্‌স ক্লাসে আমার পাশে বসা আহমাদ হঠাৎ করে চিৎকার করে
আমাকে জিজ্ঞেস করলো, "হেই ব্রো, দিদ্‌ উ ব্রিং য়্যুর ভেন্দ্রাইভ (পেন ড্রাইভ)??"
-ভেন্দ্রাইভ!???!! হোয়াট ইস ইট?

-উমমম…ভেন্দ্রাইভ ভেন্দ্রাইভ…!! (দু'হাতের আঙ্গুল দিয়ে পেন ড্রাইভ বুঝানোর চেষ্টা করছে আহমাদ)।
-স্যরি ব্রো, আই ডিডন'ট গেট য়ু, হোয়াট'স ভেন্দ্রাইভ?
-ওক্কে ওয়েইত…(এই বলে সে আরেক ছেলের ল্যাপটপ থেকে হ্যাচ্‌কা টানে পেন ড্রাইভ খুলে এনে আমাকে দেখালো এবং বললো…) দিস ইস ভেন্দ্রাইভ!!
-ওওও…পেন ড্রাইভ??? হাহাহাহাহাহাহাহা!!!! ইট'স নট "ভেন্দ্রাইভ" ব্রো! ইট'স পেন ড্রাইভ!
-ইয়াহ ইয়াহ আই নো আই নো…ইত ইস ভেন্দ্রাইভ (আসলে আহমাদ 'পেন ড্রাইভ' ই উচ্চারণ করতে চাচ্ছে কিন্তু পারছেনা)।
দিনটি ছিল IIUM আসার কয়েকদিন পরের ঘটনা। ইঞ্জিনিয়ারিং শুরু হওয়ার আগে ব্রীজিং কোর্স চলছে আমার তখন…
আমার ভার্সিটির ইঞ্জিনিয়ারিং, মেডিকেল এবং আইটি ডিপার্টমেন্টের সিস্টেম হলো, স্কুল লেভেলে যে সকল ছাত্র-ছাত্রীর পড়ালেখার মাধ্যম ইংরেজী ছিল তারা সরাসরি ডিপার্টমেন্টে ঢুকে যেতে পারবে, কিন্তু অন্য মাধ্যমে পড়ালেখা করা ছাত্র-ছাত্রীদের এক সেমিস্টারের একটি কোর্স করতে হবে যা 'ব্রীজিং কোর্স' নামে পরিচিত। কোর্সের এমন অদ্ভূত নাম এর আগে শুনিনি, মনে হয় এই কোর্সটি হাইস্কুল এবং ইউনিভার্সিটির মধ্যে সংযোগ স্থাপন করেছে বলেই এমন নাম। যারা 'ও-লেভেল' এবং 'এ-লেভেল' করে এসেছে এবং বিশ্বের যেসকল দেশের স্কুলের পড়ালেখার মাধ্যম ইংরেজী (যেমনঃ ভারত, শ্রীলঙ্কা), সে দেশের স্টুডেন্টরা সরাসরি ডিপার্টমেন্টে ১ম সেমিস্টার শুরু করতে পারে। আমি তো বাংলা মিডিয়ামেই পড়লাম হাইস্কুল পর্যন্ত, তাই আমার ভাগ্য গিয়ে ঠেকলো 'ব্রীজিং কোর্স'-এ, অন্যদিকে ঐ সেমিস্টারে বাংলাদেশ থেকে আসা আমার বন্ধু শাফি 'ও-লেভেল' এবং 'এ-লেভেল' করে আসার সরাসরি চলে গেল ডিপার্টমেন্টে। আমি হয়ে গেলাম একা…… আমি এবং শাফি একই দিনে একই ফ্লাইটে মালয়েশিয়া এসেছিলাম এবং কুয়ালালামপুর এয়ারপোর্টে ওর সাথে দেখা হবার ঘটনাটাও বেশ মজার, চমৎকার এক অভিজ্ঞতা, সে গল্প নাহয় আরেকদিন হবে।

মূলত বাংলাদেশের হাইস্কুল-কলেজে যা যা পড়ানো হয় সেগুলোই আবার ইংলিশে পড়ানো হয় ব্রীজিং কোর্সে, বিষয়গুলো হলোঃ ফিজিক্স, ক্যামিস্ট্রি, ম্যাথ, ব্যাসিক কম্পিউটার স্কিলস এবং 'C প্রোগ্রামিং'। খুব বেশি কঠিন না বাংলাদেশীদের জন্য, তবে 'C প্রোগ্রামিং' বিষয়টা কেউই বাংলাদেশে করেনি, তাই এটা আমাদের জন্য বেশ কঠিনই বটে। বিষয়টা নিয়ে আমাকে বেশ বেগ পেতে হয়েছিল প্রথম প্রথম, কিন্তু পরে বেশ মজা পেয়েছিলাম।

বন্ধুদের গপ্পো করতে গিয়ে দেখি ভার্সিটির সিস্টেম নিয়ে আলোচনা শুরু করে ফেলেছি, আপনাদের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, 'ব্রীজিং কোর্স' জিনিষটা কি? তাই হালকা ধারণা দিলাম আর কি…যাক এখন বন্ধুদের গল্প শুরু করি। ভার্সিটির সিস্টেম নিয়ে অন্য কোন একটা লেখা লিখব পরবর্তীতে।

আহমাদ এর সাথে ঐদিনের ঘটনাটি আমার কাছে সম্পূর্ণ নতুন এক অভিজ্ঞতা। তখনও আরবদের ইংলিশ উচ্চারণের এই হাল দেখতে অভ্যস্ত হয়ে উঠিনি, এ জন্যই বেশি হাসি পেত। যদিও আমার নিজের ইংলিশও খুব বাজে, কিন্তু আরবরা এমন অদ্ভূতভাবে ইংলিশে কথা বলে, তাই যাদের জন্য আরবদের ইংলিশ শোনার ব্যাপারটা নতুন কিছু তারা অবশ্যই হাসবে। ওরা মূলত 'পি' এর বদলে 'বি' অথবা 'ভি'; 'টি' এর পরিবর্তে 'তি'; 'ডি' এর পরিবর্তে 'দি' অথবা 'ধি' উচ্চারণ করে। কিন্তু 'পি' এর পরিবর্তে 'বি' এর উচ্চারণটাই বেশ হাসির। আর এ বিষয়টাও আমাদের কাছে নতুন, কারণ ইউরোপের বিভিন্ন ভাষা যেমন ইতালিয়ান, স্প্যানিশ, ফ্রেঞ্চসহ অন্যান্য বেশিরভাগ ভাষায় 'টি' এর পরিবর্তে 'তি'; 'ডি' এর পরিবর্তে 'দি' এর উচ্চারণ আমরা সবাই কমবেশি দেখেছি বা শুনেছি। কিন্তু আরব ভ্রাতাদের মুখে কখনো ইংলিশ শোনার সৌভাগ্য না হওয়ায় এই ব্যাপারটা বেশ নতুন।

এতোদিন শুধু শুনেই এসেছিলাম যে ওরা 'পি' উচ্চারণ করতে পারেনা, এখানে এসেই মূলত তা দেখার সৌভাগ্য হল। সবার অবস্থা অবশ্য একইরকম না, কেউ কেউ আছে সত্যিই 'পি' উচ্চারণ করতে পারে; আবার কেউ কেউ আছে সবসময় পারেনা, ক্ষেত্রবিশেষে……হাহাহাহা।
আরব্য হাবীবীদের 'পি' উচ্চারণ নিয়ে ইতিমধ্যে অনেক অনেক মজার অভিজ্ঞতা হয়ে গিয়েছে, কয়েকটা শেয়ার করছি। আমার সৌদী বন্ধু আবদুল্লাহ, তার সাথে আমার এক কথোপকথনঃ
-হেই ব্রো! আসসালামু আলাইকুম! হোয়াতস্‌ আপ?? ক্কাইফাল হাল?? হ্যাভ য়ু সাবমিতেদ দ্যা বার্বোসাল (proposal)??
আমি তো থতমত খেয়ে গেলাম! "বার্বোসাল" জিনিষটা কি আবার?? ভাবলাম "বার্বোসাল" হয়তো আমার না জানা ইংরেজী কোন শব্দ হবে হয়তো……হাহাহাহাহাহা……
-ওয়ালাইকুম আসসালাম। স্যরি ব্রো…অ্যাকচুয়ালি… আই ডোন্ট নো হোয়াট ইজ বার্বোসাল…
-হোয়াত্‌?? হেই ম্যান! খাম অন্‌! ইয়েস্তার্দে ইউ সেইদ মে দ্যাত্‌ ইউ উইল সাবমিত দ্যা বার্বোসাল থুদেই (today)!!
-ওহ!!! ইউ মিন...... প্রপোওসাল??
-ইয়েস ইয়েস বার্বোসাল।
-হাহাহাহা......ওকে। ডোন্ট ও্যরি, আই অলরেডী সাবমিটেড ইট।
-থ্যাক্স মাই ফ্রেন্দ!! জাযাকাল্লাহু খাইরান। আই থত্‌ ইউ হ্যাভনত সাবমিতেদ্‌ ইয়েত!
সেদিন স্টুডেন্টস ডেভেলপমেন্ট ডিভিশান বা সংক্ষেপে SDEV এ একটা প্রোগ্রামের প্রপোসাল জমা দেয়ার কথা ছিলো আমার। আবদুল্লাহও ছিল সে প্রোগ্রামে, প্রপোসাল সাবমিট করার লাস্ট ডেট ছিল সেদিনই, তাই আবদুল্লাহ ভয় পেয়ে গিয়েছিলো আমি হয়তো প্রপোসাল জমা দেয়নি বলে না জানার ভান করছি, হাহাহাহা…

আরেকটা মজার ঘটনা হলো এক টিচারকে নিয়ে। তিনি হলেন ডঃ মিরঘানি আহমাদ। সুদানিজ। আমাদের থার্মোডাইনামিক্স পড়ান। উনিও সকল 'পি' কে 'বি' বলেন। তো একদিন পানির 'ত্রৈধ বিন্দু' বা 'triple point' নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি বোর্ডেও লিখলেন 'Trible Point'! হাহাহাহাহা!! আমি তো যেন আকাশ থেকে পড়লাম!! একজন শিক্ষক কিভাবে এমন ভুল করেন?? মানলাম যে আরব ভ্রাতাগণ ইংরেজী উচ্চারণ করতে পারেননা বলে 'পি' কে 'বি' বলেন, তাই বলে লেখার সময়ও কি 'পি' টা 'বি' হয়ে যাবে নাকি???? আজিব দুনিয়া!!
পরে গত দু'বছর এ ধরনের অসংখ্য মজার ঘটনা ঘটেছে এবং ঘটেও যাচ্ছে প্রতিনিয়ত।
ফিরে যাই আহমাদ ইয়েমেনীর গল্পে। ও হলো IT'র ছাত্র, বয়স ২২। মধ্যপ্রাচ্যের বেশিরভাগ দেশের পিতা-মাতাই সন্তানদেরকে কলেজ পাশ করার সাথে সাথেই, ২০ থেকে ২২ বছরের মধ্যে বিয়ে দিয়ে দেন, পরে স্বামী-স্ত্রী একসাথে পড়ালেখা করে। আমার ক্লাসের বেশিরভাগ আরব ছাত্র-ছাত্রীই বিবাহিত। কিন্তু এই বেচারা আহমাদ এর এখনও বিয়ে হয়নি, এ নিয়ে বেচারার কি দুঃখ! এ নিয়ে একদিন কথা হচ্ছিল ওর সাথে......
-আচ্ছা আমি তো দেখছি বেশিরভাগ আরব ছাত্রেরই বিয়ে হয়ে যায় তোমার বয়সে, কিন্তু তুমি এখনও একা কেন? নাকি বিয়ে হয়ে গিয়েছে কিন্তু বউ এখনও দেশেই আছে?
প্রশ্নটা শুনে বেচারা আহমাদের মনটা বেশ খারাপ হয়ে গেল, বিশাল বড় একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে সে বললও, "না আসলে আমার বিয়ে ঠিক হয়ে গিয়েছে ইতিমধ্যে, কিন্তু বিয়ে হবে আরো অনেক পরে"। এই সময় ওর চেহারা এমন হয়ে গিয়েছিলো যেন ওর চাইতে দুঃখী ব্যক্তি এই দুনিয়াতে আর নেই! হাহাহাহহা...... বড্ড আফসোস হচ্ছিল ওর জন্য তখন।
-কেন?? আরো পরে হবে কেন? এখনই হচ্ছেনা কেন??

-আমার মা-বাবা-বোন সবাই মিলে ইতিমধ্যে একজনকে পছন্দ করে রেখেছে এবং মেয়ের পরিবারও রাজি। কিন্তু সমস্যা হলো, মেয়ের বয়স এখন মাত্র ১৪, তাই আমি নিজেও চাইনা বিয়ে করতে, আরো কমপক্ষে ৩-৪ বছর পর হয়তো হতে পারে ইনশাল্লাহ।
ওর কষ্ট দেখে হাসবো না কাঁদব বুঝতে পারছিলামনা, যদিও খুব কষ্টে হাসি চেপে রেখেছিলাম। ভাবলাম, আরো পিন মেরে দেখি ওর প্রতিক্রিয়া কি হয়! বললাম, "আহারে! তুমি সত্যিই বড্ড দুঃখী মানুষ! আমাদের নাহয় এমনিতেই কেউ নেই, আমাদের দেশের মা-বাবারাও এতো আগে বিয়ে দেননা তাদের সন্তানদের, আমাদের জন্মই হয় নাহয় পোড়া কপাল নিয়ে, তাই এতোটা আফসোস হয়না। আর তোমাদের তো বেশ আগেই বিয়ে হয়ে যায়, কিন্তু বেচারা তুমি! আমার নাহয় এমনিতেই কেউ নেই, তোমার তো থেকেও নেই! হাহাহাহাহাহা......"

এবার বেচারা আহমাদ তো এতোই কষ্ট পেলো যে, ৩-৪ টি দীর্ঘশ্বাস ফেললো, কিছুক্ষণ দম নিলো, এরপর বললো, "হেসোনা হেসোনা! আমার জায়গায় থাকলে বুঝতে, কি কষ্টে আছি!"...... হাহাহাহাহাহা!! আর এদিকে আমি তো ওর কথায় হাসতে হাসতে শেষ!
এর কিছুদিন পর আবার আহমাদ ওদের দেশের বিয়ের সংস্কৃতি নিয়ে বললো। ও যে প্রদেশ থেকে এসেছে সেখানে সাধারণত ২০-২২ বছর বয়সে ছেলেদের এবং ১৭-২০ বছর বয়সে মেয়েদের বিয়ে হয়ে যায়। এর কমবেশিও হয় মাঝে মাঝে। ইয়েমেনের অন্যান্য প্রদেশের ক্ষেত্রে এই বয়সের কিছুটা পার্থক্য রয়েছে, আবার মিলও রয়েছে। আহমাদের এলাকায় সাধারণত অপরিচিত মেয়ের সাথে কথা বলা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এ কারণে সে এখনও তার হবু স্ত্রীর সাথে কথা বলতে পারেনি। তবে ওর মা-বোন প্রায়ই ওর হবু স্ত্রীর সাথে দেখা করতে যায়, কথা বলে আসে। তবে ইয়েমেনের কিছু এলাকায় এর ভিন্নতা রয়েছে, সেখানে হবু স্ত্রী/স্বামীর সাথে মাঝে মাঝে দেখা করতে দেয়া হয়, তাও খুব কম।
বাংলাদেশী খাবারের ব্যাপারে আহমাদের খুব আগ্রহ। নানরুটি আর মুরগী ওর সবচাইতে পছন্দ। ও দেখি প্রতিরাতেই এই খাবার খায়। কিন্তু ও একটু অন্যরকমভাবে খেতো, তাই পুরো স্বাদ পেতোনা। একদিন ওকে দেখিয়ে দিলাম কিভাবে কোন পদ্ধতিতে খেলে এটা খেতে আরো মজা লাগবে, সেদিন তো সে মহাখুশি, পারলে প্রতি রাতেই আমাকে দাওয়াত দিয়ে নানরুটি আর মুরগী খাওয়ায়!
এর কিছুদিন পরের ঘটনা, প্রোগ্রামিং ক্লাস শেষে বের হয়ে যাওয়ার সময় দেখি ওর চেহারাটা বেশ মলিন। বুঝতে পারলাম বেচারা বড্ড দুঃখে আছে, মনে হয় বউয়ের কথা মনে পড়েছে! জিজ্ঞেস করলাম, "আহমাদ, কি হয়েছে তোমার?? চেহারার এই অবস্থা কেন?"
-আমার মন খুব খারাপ।
-কেন কি হয়েছে?
-আমার চাচা ফোন করেছিল......
আমি একটু চিন্তিত হয়ে পড়লাম... ওর চাচা ফোন করেছিল, কোন দুঃসংবাদ দিয়েছে নাকি? ওর মা-বাবা বা নিকটাত্মীয় কেউ মারা গিয়েছে এমন কিছুও তো হতে পারে? নাকি ওর বিয়ে ভেঙ্গে গিয়েছে এমন কিছু? আহমাদ আবার বলে উঠলও...
-চাচা ফোন করে বললো, আমার একটা ভাতিজা হয়েছে! মানে... আমার ঐ চাচার নাতি হয়েছে, তিনি দাদা হয়েছেন।
আমি তো অবাক! বললাম, "ভাতিজা হয়েছে!!? মহা সুসংবাদ! তোমার ভাতিজা মানে তো আমারও ভাতিজা তাইনা?? চলো এই উপলক্ষে আজ তোমাকে বাংলাদেশী নানরুটি আর মুরগী খাওয়াবো।"
-আমার চাচাত ভাই আমার চাইতে দুই বছরের ছোট! আমার বয়স ২১ আর ওর বয়স ১৯! ওর বিয়ে হয়ে বাবা হয়ে গেল আর আমার কিছুই হলোনা!

আহমাদের এই কথাটি শুনে আমি এতো হেসেছিলাম, ইতিপূর্বে আর কোনো কাহিনী নিয়ে এমন হাসি হয়েছিল কিনা আমার সন্দেহ আছে! আমি ওর পিঠ চাপড়ে শান্তনা দিয়ে বললাম, "আহা!! এতে এতো দুঃখ করার কি আছে?? তোমার চাচাত ভাই আজকে বাবা হয়েছে তুমি কালকে বাবা হবা! হাহাহাহাহাহাহা!!!"
-হেসোনা হে طَّارِقِ! হেসোনা। একদিন বুঝবে হুম!
-হাহাহাহহাহাহা! কি বুঝবো হে? কি আর করবা বলো?? তোমার আম্মু-আব্বু যদি আরো ২-৩ বছর বড় কাউকে পছন্দ করতো, তাহলে হয়তো তোমাকে এতোদিন অপেক্ষা করতে হতনা!
বিশাআআআল বড় ২-৩টা দীর্ঘশ্বাস ফেলে আহমাদ বললো, "হ্যা, সেটাই... আসলে এটাই আমার কপাল"......
ব্রীজিং কোর্স যতদিন চলেছে ততদিন এ নিয়ে ওর সাথে অনেক হাসি-ঠাট্টা হয়েছে, ফাজলামো হয়েছে, বেশ হাসি পায় সেদিনগুলোর কথা মনে পড়লে। ব্রীজিং এর পর আমাদের দু'জনের পথও আলাদা হয়ে গেল, আমি ইঞ্জিনিয়ারিং এ, আর ও IT তে, দেখা হয় এখন খুবই কম। ও এখন সেকেন্ড ইয়ারে, ওর ভাতিজার বয়সও দুই হতে চললো... হাহাহাহাহাহা! একই হলে থাকি বলে মাঝে মাঝে ক্যান্টিনে দেখা হয়, ফিরে যাই আবার সেই দিনগুলোতে, ওর বিয়ের কথা বলে, ভাতিজার কথা বলে রাগানোর চেষ্টা করি। ওর বিয়ের দিনও আর বেশী দূরে নেই, সম্ভবত আগামী বছরই হবে হয়তো! ও ইতিমধ্যে আমাকে দাওয়াত দিয়ে দিয়েছে ওর বিয়েতে যাওয়ার জন্য! কিন্তু সে সামর্থ্য তো আমার নেই! কিভাবে যাই!??

আমার আরব বন্ধুগুলোর মধ্যে ইয়েমেনী বন্ধুদেরকেই আমার সবচাইতে বেশি ভালো লাগে, ওদের আচার-ব্যবহার অনেক ভালো এবং অনেক হেল্পফুল! সৌদীদের মত এত্তো অহংকারী না ওরা! এজন্যই হয়তো নির্দ্বিধায় একজন বাংলাদেশীকে নিজের বিয়ের দাওয়াত দিতে পারলো সে! ইচ্ছে আছে আহমাদের বিয়েতে ইয়েমেন যাওয়ার, দেখি আল্লাহ কি সেই সৌভাগ্য করে দেন কিনা!

http://www.sonarbangladesh.com/articles/TariqRidwan
http://sonarbangladesh.com/blog/TariqR/39876 
http://www.amarbornomala.com/post5448.html

4 comments:

  1. মুজাহিদMay 10, 2011 04:28 PM

    জানি এই ব্যাপার গুল কিন্ত যখন পড়ছিলাম তখন মনে হচ্ছিল সব নতুন।
    সুন্দর...............।

    উত্তরমুছুন
  2. নামহীনMay 12, 2011 06:31 AM

    এই ভাবে ইমেনিদের একতরফা হেয় করা ঠিক হয় নাই, আর ইমেনিরা কি অনারব?? বুঝলাম নাহ।
    পুরা লিখাটা পরে মনে মনে চিন্তা করছি, আপনার সব বন্ধুদের সাথে আপনি এত হেয় ভাসায় কথা বলেন কিনা!!!

    উত্তরমুছুন
  3. ভাই আপনার জানা উচিত যে আমি মানুষটা বেশ খারাপ! B-)

    উত্তরমুছুন
  4. নামহীনJun 10, 2011 10:57 AM

    বড়ই মজা পাইলাম........

    উত্তরমুছুন